ব্যায়ামের পর মাসল পেইন? মুক্তির ৫টি সহজ উপায়!

ব্যায়ামের পর মাসল পেইন কমানোর উপায়

ব্যায়াম করছেন, এটা খুবই ভালো একটা অভ্যাস। কিন্তু ব্যায়ামের পর শরীরে ব্যথা? এটা যেন সব আনন্দ মাটি করে দেয়, তাই না?

মাসল পেইন বা মাংসপেশীর ব্যথা ব্যায়ামের পরে হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু এই ব্যথা কমিয়ে আপনি কিভাবে দ্রুত ফিট হয়ে উঠবেন, সেটাই আসল কথা। চলুন, জেনে নেই ব্যায়ামের পর মাসল পেইন কমানোর কিছু কার্যকরী উপায়।

Contents

মাসল পেইন কেন হয়?

ব্যায়ামের পর মাসল পেইন কেন হয়, সেটা আগে বুঝতে হবে। মূলত, যখন আপনি নতুন কোনো ব্যায়াম শুরু করেন অথবা অনেক দিন পর আবার ব্যায়াম করছেন, তখন আপনার মাংসপেশীতে ছোট ছোট টিয়ার বা ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।

এতে প্রদাহ সৃষ্টি হয়, আর তা থেকেই ব্যথা অনুভূত হয়। এই ব্যথা সাধারণত ব্যায়াম করার ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর শুরু হয়। একে ডিলেইড অনসেট মাসল সোনেস (Delayed Onset Muscle Soreness) বা DOMS বলা হয়।

মাসল পেইন কমানোর উপায়

ব্যায়ামের পর মাসল পেইন কমানোর কিছু সহজ উপায় নিচে দেওয়া হলো, যা আপনাকে দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করবে:

ঠাণ্ডা ও গরম সেঁক

ঠাণ্ডা ও গরম সেঁক দুটোই মাসল পেইন কমাতে খুব কার্যকর।

ঠাণ্ডা সেঁক

ব্যায়ামের পরপরই ঠাণ্ডা সেঁক নিলে প্রদাহ কমে যায় এবং ব্যথা কমে আসে।

বরফ বা ঠাণ্ডা জলের ব্যাগ দিয়ে ১৫-২০ মিনিট সেঁক দিন।

গরম সেঁক

ঠাণ্ডা সেঁকের পর গরম সেঁক নিলে মাংসপেশী রিল্যাক্স হয় এবং রক্ত চলাচল বাড়ে।

গরম জলের ব্যাগ বা গরম তোয়ালে দিয়ে ২০-৩০ মিনিট সেঁক দিন।

সঠিক ডায়েট

সঠিক ডায়েট মাসল রিকভারির জন্য খুবই জরুরি।

প্রোটিন গ্রহণ

ব্যায়ামের পর প্রোটিন গ্রহণ করলে মাংসপেশী দ্রুত পুনরুদ্ধার হয়। ডিম, চিকেন, মাছ, এবং ডাল প্রোটিনের ভালো উৎস।

ভিটামিন ও মিনারেলস

ভিটামিন ও মিনারেলস শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করে।

ফল, সবজি, এবং বাদাম আপনার খাদ্য তালিকায় যোগ করুন।

পর্যাপ্ত ঘুম

পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে পুনরায় সক্রিয় করে তোলে। ব্যায়ামের পর অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। ঘুম শরীরকে রিল্যাক্স করে এবং মাসল রিকভারিতে সাহায্য করে।

স্ট্রেচিং ও ওয়ার্ম-আপ

স্ট্রেচিং এবং ওয়ার্ম-আপ ব্যায়ামের আগে ও পরে করা উচিত।

ওয়ার্ম-আপ

ওয়ার্ম-আপ ব্যায়ামের আগে করলে মাংসপেশীগুলো ব্যায়ামের জন্য প্রস্তুত হয় এবং আঘাতের ঝুঁকি কমে।

স্ট্রেচিং

স্ট্রেচিং ব্যায়ামের পরে করলে মাংসপেশীর টান কমে এবং ব্যথা উপশম হয়।

Google Image

ম্যাসেজ

ম্যাসেজ করলে মাংসপেশীর রক্ত চলাচল বাড়ে এবং ব্যথা কমে। হালকা হাতে মাসাজ করুন অথবা প্রফেশনাল থেরাপিস্টের সাহায্য নিতে পারেন।

সঠিক পোশ্চার

ব্যায়াম করার সময় সঠিক পোশ্চার খুব জরুরি। ভুল পোশ্চারে ব্যায়াম করলে শরীরের জয়েন্ট এবং মাংসপেশীতে বেশি চাপ পড়ে, যা থেকে ব্যথা হতে পারে।

কমপ্রেশন গার্মেন্টস

কমপ্রেশন গার্মেন্টস যেমন টাইটস বা মোজা পরিধান করলে মাংসপেশীর ফোলা এবং ব্যথা কমতে পারে।

অ্যাক্টিভ রিকভারি

অ্যাক্টিভ রিকভারি মানে হালকা ব্যায়াম করা। যেমন, হাঁটা বা হালকা স্ট্রেচিং। এটি রক্ত চলাচল বাড়ায় এবং মাসল রিকভারিতে সাহায্য করে।

পানি পান করা

ব্যায়ামের সময় শরীর থেকে অনেক পানি বেরিয়ে যায়, তাই ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচতে প্রচুর পানি পান করা উচিত।

অন্যান্য টিপস

  • ধীরে ধীরে ব্যায়ামের তীব্রতা বাড়ান।
  • নতুন ব্যায়াম শুরু করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • ব্যথা বেশি হলে বিশ্রাম নিন এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ব্যায়ামের সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলা উচিত

ব্যায়াম করার সময় কিছু ভুল করা থেকে বিরত থাকলে মাসল পেইন অনেকটা কমানো যায়।

  • ওয়ার্ম আপ না করা: ব্যায়ামের আগে ওয়ার্ম আপ না করলে মাংসপেশীগুলো হঠাৎ করে চাপে পড়ে, যা থেকে ব্যথা হতে পারে।
  • বেশি ওজন নেয়া: নিজের ক্ষমতার বাইরে বেশি ওজন নিলে মাংসপেশীতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ব্যথা হয়।
  • ভুল পোশ্চারে ব্যায়াম করা: ভুল পোশ্চারে ব্যায়াম করলে শরীরের জয়েন্ট এবং মাংসপেশীতে বেশি চাপ পড়ে, যা থেকে ব্যথা হতে পারে।
  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নেয়া: ব্যায়ামের পর শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম না দিলে মাংসপেশী পুনরুদ্ধার হতে পারে না এবং ব্যথা বাড়ে।

মাসল পেইন কমাতে কিছু ঘরোয়া উপায়

  • হলুদ: হলুদে থাকা কারকিউমিন নামক উপাদান প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
  • আদা: আদা ব্যথা কমাতে খুব কার্যকরী।
  • অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার: এটি মাংসপেশীর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
  • লবঙ্গ তেল: লবঙ্গ তেলে থাকা উপাদান ব্যথা কমায়।

কখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে?

সাধারণত ব্যায়ামের পরের ব্যথা কয়েক দিনের মধ্যে সেরে যায়। কিন্তু যদি দেখেন ব্যথা বাড়ছে, ফোলা বা লাল হয়ে গেছে, অথবা জ্বর আসছে, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।

মাসল পেইন এবং ক্র্যাম্পের মধ্যে পার্থক্য

অনেকেই মাসল পেইন এবং ক্র্যাম্পকে এক মনে করেন, কিন্তু এই দুটো ভিন্ন জিনিস। মাসল পেইন সাধারণত ব্যায়ামের পরে হয় এবং ধীরে ধীরে বাড়ে। অন্যদিকে, ক্র্যাম্প হঠাৎ করে হয় এবং মাংসপেশী শক্ত হয়ে যায়। ক্র্যাম্প সাধারণত ডিহাইড্রেশন বা ইলেক্ট্রোলাইটের অভাবে হয়ে থাকে।

মাসল পেইন কমাতে সহায়ক খাবার

কিছু খাবার আছে যা মাসল পেইন কমাতে সাহায্য করতে পারে:

খাবার উপকারিতা
টক দই প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম সরবরাহ করে, যা মাসল রিকভারিতে সাহায্য করে
বাদাম ও বীজ ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন ই সরবরাহ করে, যা প্রদাহ কমায়
ডিম প্রোটিনের উৎস, যা মাংসপেশী গঠনে সাহায্য করে
মিষ্টি আলু পটাশিয়াম সরবরাহ করে, যা ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স বজায় রাখে
তরমুজ অ্যামিনো অ্যাসিড এল-সিট্রুলিন থাকে, যা মাসল সোনেস কমাতে সাহায্য করে

Google Image

মাসল পেইন কমাতে কিছু ব্যায়াম

কিছু হালকা ব্যায়াম আছে যা মাসল পেইন কমাতে সাহায্য করতে পারে:

  • হাঁটা: হালকা হাঁটা রক্ত চলাচল বাড়ায় এবং ব্যথা কমায়।
  • সাঁতার: সাঁতার একটি ভালো ব্যায়াম, যা শরীরের জয়েন্টগুলোতে চাপ কমায়।
  • যোগা: যোগা মাংসপেশী প্রসারিত করে এবং ব্যথা কমায়।
  • সাইকেল চালানো: হালকা সাইকেল চালানো রক্ত চলাচল বাড়ায় এবং মাসল রিকভারিতে সাহায্য করে।

মাসল পেইন কমানোর ঔষধ

মাসল পেইন বেশি হলে কিছু ঔষধ ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে।

  • পেইন কিলার: আইবুপ্রোফেন বা প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
  • মাসল রিলাক্সেন্ট: এই ঔষধ মাংসপেশী শিথিল করে ব্যথা কমায়।
  • টপিক্যাল ক্রিম: কিছু ব্যথানাশক ক্রিম পাওয়া যায়, যা সরাসরি ব্যথার জায়গায় লাগালে আরাম পাওয়া যায়।

মাসল পেইন কমাতে ফিজিওথেরাপি

ফিজিওথেরাপি মাসল পেইন কমানোর একটি কার্যকরী উপায়। একজন ফিজিওথেরাপিস্ট বিভিন্ন ব্যায়াম এবং থেরাপির মাধ্যমে ব্যথা কমাতে সাহায্য করেন।

  • আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি: এই থেরাপি শরীরের গভীরে গিয়ে ব্যথা কমায়।
  • ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশন: এই থেরাপি মাংসপেশীকে উদ্দীপিত করে ব্যথা কমায়।
  • ম্যানুয়াল থেরাপি: এই পদ্ধতিতে হাত দিয়ে মাংসপেশীর টান কমানো হয়।

মাসল পেইন কমাতে আকুপ্রেসার

আকুপ্রেসার একটি প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে শরীরের কিছু নির্দিষ্ট পয়েন্টে চাপ দিয়ে ব্যথা কমানো হয়। এটি মাসল পেইন কমাতে বেশ কার্যকর।

মাসল পেইন কমাতে আকুপাংচার

আকুপাংচার একটি চীনা চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে শরীরের কিছু নির্দিষ্ট পয়েন্টে ছোট ছোট সুঁই ঢুকিয়ে ব্যথা কমানো হয়। এটি মাসল পেইন কমাতে সাহায্য করে।

মাসল পেইন কমাতে জীবনযাত্রার পরিবর্তন

কিছু জীবনযাত্রার পরিবর্তন মাসল পেইন কমাতে সাহায্য করতে পারে:

  • নিয়মিত ব্যায়াম: নিয়মিত ব্যায়াম করলে মাংসপেশী শক্তিশালী হয় এবং ব্যথা কম হয়।
  • সুষম খাবার: সুষম খাবার খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এবং মাসল রিকভারি দ্রুত হয়।
  • পর্যাপ্ত ঘুম: পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে রিল্যাক্স করে এবং মাসল রিকভারিতে সাহায্য করে।
  • কম স্ট্রেস: স্ট্রেস শরীরের ব্যথা বাড়াতে পারে, তাই স্ট্রেস কমানোর চেষ্টা করুন।

মাসল পেইন কমাতে কিছু ভুল ধারণা

মাসল পেইন নিয়ে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, যা এড়িয়ে চলা উচিত:

  • ব্যায়াম বন্ধ করে দেওয়া: ব্যথা হলে অনেকেই ব্যায়াম বন্ধ করে দেন, যা ঠিক নয়। হালকা ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া উচিত।
  • বেশি বিশ্রাম নেওয়া: বেশি বিশ্রাম নিলে মাংসপেশী দুর্বল হয়ে যায়। হালকা ব্যায়াম করা উচিত।
  • শুধু ঔষধের উপর নির্ভর করা: শুধু ঔষধের উপর নির্ভর না করে ব্যায়াম এবং অন্যান্য ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করা উচিত।

মাসল পেইন কমাতে যোগ ব্যায়াম

যোগ ব্যায়াম মাসল পেইন কমাতে খুবই উপযোগী। কিছু যোগাসন নিচে দেওয়া হলো:

  • ভুজঙ্গাসন: এই আসন পেটের মাংসপেশী প্রসারিত করে এবং ব্যথা কমায়।
  • মার্জারাসন: এই আসন মেরুদণ্ড প্রসারিত করে এবং ব্যথা কমায়।
  • বালাসন: এই আসন শরীরকে রিল্যাক্স করে এবং ব্যথা কমায়।
  • অধোমুখাসন: এই আসন মাংসপেশী প্রসারিত করে এবং ব্যথা কমায়।

মাসল পেইন কমাতে Pilates

Pilates একটি ব্যায়াম পদ্ধতি যা শরীরের কোর মাসলকে শক্তিশালী করে এবং শরীরের ভারসাম্য বাড়ায়। এটি মাসল পেইন কমাতে সাহায্য করে।

Google Image

মাসল পেইন কমাতে তাই চি

তাই চি একটি চীনা ব্যায়াম পদ্ধতি যা ধীরে ধীরে শরীরের মুভমেন্ট এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে করা হয়। এটি শরীরের ভারসাম্য বাড়ায় এবং মাসল পেইন কমাতে সাহায্য করে।

মাসল পেইন কমাতে তাই কোয়ান

তাই কোয়ান একটি কোরিয়ান মার্শাল আর্ট, যা শরীরের শক্তি এবং নমনীয়তা বাড়ায়। এটি মাসল পেইন কমাতে সাহায্য করে।

মাসল পেইন কমাতে জুম্বা

জুম্বা একটি ডান্স ফিটনেস প্রোগ্রাম, যা শরীরের ক্যালোরি বার্ন করে এবং মাসল টোন করে। এটি মাসল পেইন কমাতে সাহায্য করে।

মাসল পেইন কমাতে অ্যারোবিক্স

অ্যারোবিক্স একটি ব্যায়াম পদ্ধতি যা শরীরের কার্ডিওভাসকুলার ফিটনেস বাড়ায় এবং মাসল টোন করে। এটি মাসল পেইন কমাতে সাহায্য করে।

মাসল পেইন কমাতে ক্রসফিট

ক্রসফিট একটি ব্যায়াম পদ্ধতি যা শরীরের শক্তি, নমনীয়তা এবং সহনশীলতা বাড়ায়। এটি মাসল পেইন কমাতে সাহায্য করে, তবে নতুনদের জন্য এটি কঠিন হতে পারে।

মাসল পেইন কমাতে ওয়েট লিফটিং

ওয়েট লিফটিং একটি ব্যায়াম পদ্ধতি যা শরীরের শক্তি বাড়ায় এবং মাসল গ্রোথ করে। এটি মাসল পেইন কমাতে সাহায্য করে, তবে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত।

মাসল পেইন কমাতে ক্যালিথেনিক্স

ক্যালিথেনিক্স একটি ব্যায়াম পদ্ধতি যা শরীরের ওজন ব্যবহার করে করা হয়। এটি শরীরের শক্তি, নমনীয়তা এবং সহনশীলতা বাড়ায়। এটি মাসল পেইন কমাতে সাহায্য করে।

মাসল পেইন কমাতে স্পিনিং

স্পিনিং একটি ব্যায়াম পদ্ধতি যা সাইকেল চালানোর মতো, তবে এটি ইনডোরে করা হয়। এটি শরীরের কার্ডিওভাসকুলার ফিটনেস বাড়ায় এবং মাসল টোন করে। এটি মাসল পেইন কমাতে সাহায্য করে।

মাসল পেইন কমাতে আউটডোর ব্যায়াম

কিছু আউটডোর ব্যায়াম আছে যা মাসল পেইন কমাতে সাহায্য করতে পারে:

  • হাঁটা: প্রকৃতির মাঝে হাঁটা শরীর ও মনকে শান্তি দেয় এবং ব্যথা কমায়।
  • দৌড়ানো: হালকা দৌড়ানো রক্ত চলাচল বাড়ায় এবং মাসল রিকভারিতে সাহায্য করে।
  • সাইকেল চালানো: প্রকৃতির মাঝে সাইকেল চালানো একটি মজার ব্যায়াম, যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী।
  • পাহাড় ট্রেকিং: পাহাড় ট্রেকিং একটি চ্যালেঞ্জিং ব্যায়াম, যা শরীরের শক্তি এবং সহনশীলতা বাড়ায়।

মাসল পেইন কমাতে ইনডোর ব্যায়াম

কিছু ইনডোর ব্যায়াম আছে যা মাসল পেইন কমাতে সাহায্য করতে পারে:

  • ট্রেডমিল: ট্রেডমিলে হাঁটা বা দৌড়ানো একটি সহজ ব্যায়াম, যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী।
  • স্টেশনারি সাইকেল: স্টেশনারি সাইকেলে সাইকেল চালানো একটি ভালো ব্যায়াম, যা শরীরের জয়েন্টগুলোতে চাপ কমায়।
  • ডাম্বেল ব্যায়াম: ডাম্বেল ব্যায়াম শরীরের শক্তি বাড়ায় এবং মাসল টোন করে।
  • পুল-আপস: পুল-আপস একটি কঠিন ব্যায়াম, যা শরীরের উপরের অংশের শক্তি বাড়ায়।

মাসল পেইন কমাতে কিছু আধুনিক গ্যাজেট

কিছু আধুনিক গ্যাজেট আছে যা মাসল পেইন কমাতে সাহায্য করতে পারে:

  • মাসাজ গান: এই গ্যাজেট মাংসপেশীতে ভাইব্রেশন দিয়ে ব্যথা কমায়।
  • ফোম রোলার: এই রোলার মাংসপেশীর টান কমাতে সাহায্য করে।
  • কমপ্রেশন স্লিভ: এই স্লিভ মাংসপেশীর ফোলা এবং ব্যথা কমায়।
  • ইলেকট্রিক্যাল মাসল স্টিমুলেটর: এই গ্যাজেট মাংসপেশীকে উদ্দীপিত করে ব্যথা কমায়।

মাসল পেইন কমাতে কিছু জরুরি সতর্কতা

  • ব্যায়াম করার সময় শরীরের কথা শুনুন এবং অতিরিক্ত চাপ পরিহার করুন।
  • নতুন ব্যায়াম শুরু করার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • যদি ব্যথা অসহ্য হয়, তাহলে ব্যায়াম বন্ধ করুন এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং শরীরকে পুনরুদ্ধার করার সুযোগ দিন।

কী মনে রাখতে হবে (Key Takeaways)

  • ব্যায়ামের পর মাসল পেইন হওয়া স্বাভাবিক, তবে কিছু উপায় অবলম্বন করে এটি কমানো যায়।
  • ঠাণ্ডা ও গরম সেঁক, সঠিক ডায়েট, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্ট্রেচিং মাসল পেইন কমাতে খুবই কার্যকর।
  • ব্যায়াম করার সময় সঠিক পোশ্চার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।
  • ব্যথা বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে দ্বিধা করবেন না।
  • জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তন এবং যোগ ব্যায়াম মাসল পেইন কমাতে সাহায্য করতে পারে।

FAQ

এখানে কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো, যা মাসল পেইন নিয়ে আপনার মনে আসতে পারে:

১. ব্যায়ামের পর মাসল পেইন কতদিন থাকে?

সাধারণত, ব্যায়ামের পর মাসল পেইন ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। তবে, এটা ব্যক্তি এবং ব্যায়ামের ধরনের উপর নির্ভর করে।

২. মাসল পেইন হলে কি ব্যায়াম করা উচিত?

মাসল পেইন হলে হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে, যেমন হাঁটা বা স্ট্রেচিং। কিন্তু বেশি ব্যথা থাকলে বিশ্রাম নেওয়া উচিত।

৩. মাসল পেইন কমানোর জন্য কোন ঔষধ ভালো?

মাসল পেইন কমানোর জন্য আইবুপ্রোফেন বা প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে।

৪. মাসল পেইন কমাতে কি গরম সেঁক ভালো, নাকি ঠাণ্ডা সেঁক?

ব্যায়ামের পরপরই ঠাণ্ডা সেঁক নেওয়া ভালো, কারণ এটি প্রদাহ কমায়। এরপর গরম সেঁক নিলে মাংসপেশী রিল্যাক্স হয় এবং রক্ত চলাচল বাড়ে।

৫. মাসল পেইন থেকে দ্রুত মুক্তির উপায় কি?

মাসল পেইন থেকে দ্রুত মুক্তির জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সঠিক ডায়েট, ঠাণ্ডা ও গরম সেঁক, এবং হালকা ব্যায়াম করা উচিত।

৬. DOMS (Delayed Onset Muscle Soreness) কি?

DOMS হলো ব্যায়ামের পর মাংসপেশীতে ব্যথা, যা সাধারণত ব্যায়াম করার ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর শুরু হয়।

৭. মাসল পেইন কি মারাত্মক কিছু নির্দেশ করে?

সাধারণ মাসল পেইন মারাত্মক নয়, তবে যদি ব্যথা খুব বেশি হয়, ফোলা বা লাল হয়ে যায়, অথবা জ্বর আসে, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এই টিপসগুলো অনুসরণ করে আপনি ব্যায়ামের পরের মাসল পেইন কমাতে পারবেন এবং সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবেন।