কুঁজো ভাব? ৫ ব্যায়ামে মুক্তি! এখনই দেখুন

শারীরিক গঠন অনেকের কাছেই খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর কুঁজো হয়ে যাওয়া শরীর দেখতে কার ভালো লাগে, বলুন?

কুঁজো হয়ে যাওয়া শুধু দেখতে খারাপ নয়, এটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও বটে। তাই, কুঁজো ভাব দূর করার ব্যায়ামগুলো সম্পর্কে জেনে আপনার শরীরকে ফিট রাখতে চান নিশ্চয়ই?

তাহলে চলুন, শুরু করা যাক!

Contents

কুঁজো ভাব কেন হয়?

কুঁজো হওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। চলুন, কয়েকটি কারণ জেনে নেই:

  • ভুল অঙ্গবিন্যাস বা поза (Posture): একটানা ভুলভাবে বসলে বা দাঁড়ালে মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে যেতে পারে।
  • অস্টিওপোরোসিস: এই রোগে হাড় দুর্বল হয়ে যায় এবং সহজে ভেঙে যায়।
  • বয়স: বয়সের সাথে সাথে মেরুদণ্ডের ডিস্কগুলো দুর্বল হয়ে কুঁজো ভাব দেখা দিতে পারে।
  • আঘাত: মেরুদণ্ডে আঘাত পেলে বা ফ্র্যাকচার হলে কুঁজো হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
  • অন্যান্য রোগ: কিছু রোগ যেমন – সেরিব্রাল পালসি বা মেরুদণ্ডের টিউমার কুঁজোভাবের কারণ হতে পারে।

কুঁজো হলে কী কী সমস্যা হতে পারে?

কুঁজো হলে শুধু দেখতে খারাপ লাগে না, এর কারণে অনেক শারীরিক সমস্যাও হতে পারে। আসুন জেনে নেই কুঁজো হলে কী কী সমস্যা হতে পারে:

  • পিঠে ব্যথা: কুঁজো হলে মেরুদণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যার কারণে পিঠে ব্যথা হতে পারে।
  • শ্বাসকষ্ট: কুঁজো হওয়ার কারণে বুকের খাঁচা সংকুচিত হয়ে ফুসফুসের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে, ফলে শ্বাসকষ্ট হয়।
  • ক্লান্তি: শরীর সঠিকভাবে কাজ করতে না পারায় অল্পতেই ক্লান্তি লাগতে পারে।
  • হজম সমস্যা: কুঁজো শরীরের কারণে পেটের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংকুচিত হয়ে হজমে সমস্যা হতে পারে।
  • হাড়ের দুর্বলতা: অস্টিওপোরোসিসের কারণে কুঁজো হলে হাড় আরও দুর্বল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কুঁজো ভাব দূর করার ব্যায়াম

কুঁজো ভাব কমাতে কিছু ব্যায়াম নিয়মিত করতে পারেন। ব্যায়ামগুলো করার আগে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

চিন টাক (Chin Tuck)

এই ব্যায়াম ঘাড়ের মাংসপেশি শক্তিশালী করে এবং মেরুদণ্ড সোজা রাখতে সাহায্য করে।

কীভাবে করবেন:

  • সোজা হয়ে বসুন অথবা দাঁড়ান।
  • চোয়াল সামান্য ভেতরের দিকে টেনে ধরুন, যেন আপনার থুতনি সামান্য নিচে নামে।
  • মাথা সোজা রেখে কিছুক্ষণ এই অবস্থানে থাকুন।
  • দিনে কয়েকবার এটি করুন।

শোল্ডার ব্লেড স্কুইজ (Shoulder Blade Squeeze)

এই ব্যায়াম পিঠের মাংসপেশি শক্তিশালী করে এবং কুঁজো হয়ে যাওয়া থেকে মুক্তি দেয়।

কীভাবে করবেন:

  • সোজা হয়ে বসুন অথবা দাঁড়ান।
  • দুই হাতের কনুই সামান্য বাঁকিয়ে কাঁধ পেছনের দিকে নিয়ে যান।
  • পিঠের মাংসপেশিগুলো একসাথে করুন, যেন মনে হয় দুটি কাঁধের হাড় একসাথে লেগে যাচ্ছে।
  • কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং তারপর ছেড়ে দিন।
  • দিনে কয়েকবার এটি করুন।

চেস্ট স্ট্রেচ (Chest Stretch)

এই ব্যায়াম বুকের মাংসপেশি প্রসারিত করে এবং কাঁধ সোজা রাখতে সাহায্য করে।

কীভাবে করবেন:

  • দরজার সামনে অথবা কোনো কোণে সোজা হয়ে দাঁড়ান।
  • দুই হাত দেয়ালের উপর অথবা দরজার ফ্রেমে রাখুন।
  • ধীরে ধীরে সামনের দিকে ঝুঁকে বুকের মাংসপেশি প্রসারিত করুন।
  • কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং তারপর ছেড়ে দিন।
  • দিনে কয়েকবার এটি করুন।

ব্যাক এক্সটেনশন (Back Extension)

এই ব্যায়াম মেরুদণ্ড সোজা রাখতে এবং পিঠের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

কীভাবে করবেন:

  • মেঝেতে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন।
  • হাত দুটো মাথার পেছনে রাখুন।
  • ধীরে ধীরে মাথা, কাঁধ এবং বুক মাটি থেকে উপরে তুলুন।
  • কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং তারপর ধীরে ধীরে নিচে নামুন।
  • দিনে কয়েকবার এটি করুন।

ক্যাট-কাউ স্ট্রেচ (Cat-Cow Stretch)

এই ব্যায়াম মেরুদণ্ড নমনীয় রাখতে এবং পিঠের মাংসপেশি শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

কীভাবে করবেন:

Google Image

  • মেঝেতে হাঁটু এবং হাতের তালুর উপর ভর দিয়ে বসুন।
  • শ্বাস নেওয়ার সময় পেট নিচের দিকে নামিয়ে মেরুদণ্ড বাঁকিয়ে উপরের দিকে তাকান (কাউ পোজ)।
  • শ্বাস ছাড়ার সময় পেট ভেতরের দিকে টেনে মেরুদণ্ড উপরের দিকে গোল করে ধরুন (ক্যাট পোজ)।
  • কয়েকবার এটি করুন।

সুপাইন চেস্ট ওপেনার (Supine Chest Opener)

এই ব্যায়াম বুকের পেশী প্রসারিত করে এবং কুঁজোভাব কমাতে সাহায্য করে।

কীভাবে করবেন:

  • মেঝেতে সোজা হয়ে শুয়ে পড়ুন।
  • দুই হাত শরীরের পাশে ছড়িয়ে দিন, হাতের তালু উপরের দিকে থাকবে।
  • মেরুদণ্ড সোজা রেখে বুকের পেশী প্রসারিত করুন।
  • কিছুক্ষণ ধরে রাখুন, তারপর বিশ্রাম নিন।
  • দিনে কয়েকবার এটি করুন।

ডাউনওয়ার্ড-ফেসিং ডগ (Downward-Facing Dog)

এটি একটি ইয়োগা আসন, যা পুরো শরীরের জন্য খুবই উপকারী।

কীভাবে করবেন:

  • প্রথমে, উপুড় হয়ে বসুন এবং হাত ও হাঁটু মেঝেতে রাখুন।
  • তারপর, ধীরে ধীরে হাঁটু এবং কোমর উপরে তুলুন, যাতে আপনার শরীর একটি উল্টানো ‘V’ আকৃতি নেয়।
  • মাথা নিচের দিকে ঝুলিয়ে দিন এবং মেরুদণ্ড সোজা রাখার চেষ্টা করুন।
  • কিছুক্ষণ এই অবস্থানে থাকুন এবং তারপর ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন।
  • এই ব্যায়ামটি দিনে কয়েকবার করতে পারেন।

ফরওয়ার্ড ফোল্ড (Forward Fold)

এই ব্যায়াম মেরুদণ্ডকে প্রসারিত করে এবং শরীরের পেছনের পেশীগুলোকে নমনীয় করে।

কীভাবে করবেন:

  • সোজা হয়ে দাঁড়ান এবং পা সামান্য ফাঁক করুন।
  • শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে কোমর থেকে শরীর সামনের দিকে বাঁকান।
  • হাত দিয়ে পায়ের আঙুল স্পর্শ করার চেষ্টা করুন। যদি না পারেন, তবে যতটুকু পারেন ততটুকুই করুন।
  • মাথা শিথিল করে দিন এবং কিছুক্ষণ এই অবস্থানে থাকুন।
  • ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে নিতে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন।
  • এই ব্যায়ামটি দিনে কয়েকবার করতে পারেন।

লোয়ার ব্যাক রোটেশন (Lower Back Rotation)

এই ব্যায়াম কোমর এবং মেরুদণ্ডের জন্য খুবই উপকারী।

কীভাবে করবেন:

  • সোজা হয়ে শুয়ে পড়ুন এবং হাঁটু ভাঁজ করুন।
  • হাত দুটো দুই পাশে ছড়িয়ে দিন।
  • ধীরে ধীরে হাঁটু দুটো একদিকে কাত করুন, যেন আপনার কোমর সামান্য ঘোরে।
  • কিছুক্ষণ এই অবস্থানে থাকুন এবং তারপর অন্য দিকে কাত করুন।
  • প্রতিটি দিকে কয়েকবার করে এটি করুন।

ওয়াল স্লাইড (Wall Slide)

দেয়ালের সাথে শরীর লাগিয়ে হাত উপরে তোলার এই ব্যায়ামটি কুঁজোভাব কমাতে খুবই উপযোগী।

কীভাবে করবেন:

  • প্রথমে দেয়ালের দিকে মুখ করে দাঁড়ান এবং আপনার পিঠ, কোমর ও মাথা দেয়ালের সাথে লাগান।
  • আপনার পা দেয়াল থেকে সামান্য দূরে রাখুন।
  • এরপর আপনার দুই হাত দেয়ালের সাথে লাগিয়ে ধীরে ধীরে উপরের দিকে তুলুন।
  • হাত তোলার সময় খেয়াল রাখবেন, আপনার হাত যেন দেয়ালের সাথে লেগে থাকে।
  • যতক্ষণ সম্ভব হাত উপরে তুলে ধরে রাখুন, তারপর ধীরে ধীরে হাত নিচে নামিয়ে আনুন।
  • এই ব্যায়ামটি প্রতিদিন ৫-১০ বার করুন।

অফিসে কাজের সময় কুঁজো হওয়া থেকে বাঁচতে কী করবেন?

অফিসে একটানা কাজ করার সময় কুঁজো হয়ে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। তাই কিছু নিয়ম মেনে চললে আপনি এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন:

১. সঠিক চেয়ার ব্যবহার করুন:

  • এরগোনোমিক চেয়ার ব্যবহার করুন, যা আপনার মেরুদণ্ডকে সাপোর্ট দেয়।
  • চেয়ারের উচ্চতা এমনভাবে ঠিক করুন, যাতে আপনার পা মেঝেতে লেগে থাকে এবং হাঁটু ৯০ ডিগ্রি কোণে থাকে।

Google Image

২. কম্পিউটার স্ক্রিন সঠিক উচ্চতায় রাখুন:

  • স্ক্রিনটি আপনার চোখের লেভেলে রাখুন, যাতে আপনার ঘাড় বাঁকা করে কাজ করতে না হয়।
  • স্ক্রিন খুব কাছে বা দূরে রাখবেন না, চোখের জন্য আরামদায়ক দূরত্বে রাখুন।

৩. নিয়মিত বিরতি নিন:

  • প্রতি ৩০ মিনিট পর পর চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ান এবং થોડા হাটাচলা করুন।
  • ঘাড় ও কাঁধের হালকা ব্যায়াম করুন, যাতে মাংসপেশিগুলো সচল থাকে।

৪. সঠিকভাবে বসুন:

  • সোজা হয়ে বসুন এবং মেরুদণ্ড চেয়ারের ব্যাক সাপোর্টের সাথে ঠেকিয়ে রাখুন।
  • কোমর সামান্য বাঁকিয়ে বসুন, যাতে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক кривиzna বজায় থাকে।

৫. কাজের পরিবেশ গুছিয়ে রাখুন:

  • যে জিনিসগুলো বেশি ব্যবহার করেন, সেগুলো হাতের কাছেই রাখুন যাতে শরীর বাঁকাতে না হয়।
  • অতিরিক্ত কাগজপত্র বা জিনিসপত্র টেবিল থেকে সরিয়ে ফেলুন, যাতে বসার জন্য যথেষ্ট জায়গা থাকে।

৬. ব্যায়াম করুন:

  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন, যা আপনার পিঠ ও পেটের মাংসপেশি শক্তিশালী করে।
  • যোগা ও স্ট্রেচিংয়ের মাধ্যমে শরীরকে নমনীয় রাখুন।

কুঁজো ভাব কমানোর জন্য ডায়েট কেমন হওয়া উচিত?

কুঁজো ভাব কমাতে সঠিক ডায়েট খুবই জরুরি। কিছু খাবার আছে যা হাড়কে শক্তিশালী করে এবং শরীরের গঠন ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

১. ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার:

  • দুধ, দই, পনির ইত্যাদি খাবার হাড়ের জন্য খুবই জরুরি।
  • সবুজ শাকসবজি যেমন পালং শাক, ব্রোকলি থেকেও প্রচুর ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

২. ভিটামিন ডি:

Google Image

  • ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। ডিমের কুসুম, মাছ এবং মাশরুমে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
  • নিয়মিত সূর্যের আলোতে থাকুন, কারণ সূর্যের আলো আমাদের শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি করে।

৩. প্রোটিন:

  • প্রোটিন শরীরের মাংসপেশি গঠনে সাহায্য করে। ডিম, মাছ, মাংস, এবং ডাল প্রোটিনের ভালো উৎস।
  • সিমের বিচি ও বাদাম থেকেও প্রোটিন পাওয়া যায়।

৪. ভিটামিন কে:

  • ভিটামিন কে হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। সবুজ শাকসবজি, বাঁধাকপি, এবং ফুলকপিতে ভিটামিন কে পাওয়া যায়।

৫. ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম:

  • এই মিনারেলগুলো হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে। কলা, মিষ্টি আলু, এবং অ্যাভোকাডোতে ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম পাওয়া যায়।

৬. ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড:

  • এটি হাড়ের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। মাছ, তিসি বীজ, এবং আখরোটে ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়।

কুঁজো ভাব দূর করার ব্যায়াম: কিছু টিপস

কুঁজো ভাব দূর করার জন্য ব্যায়াম করার সময় কিছু বিষয় মনে রাখা দরকার। এতে ব্যায়ামগুলো সঠিকভাবে করা যায় এবং ভালো ফল পাওয়া যায়।

  • ব্যায়াম শুরু করার আগে শরীর গরম করুন। হালকা স্ট্রেচিং বা થોડા হাটাচলা করে শরীর গরম করতে পারেন।
  • ধীরে ধীরে ব্যায়াম করুন। তাড়াহুড়ো করে ব্যায়াম করলে চোট লাগতে পারে।
  • প্রতিদিন ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। নিয়মিত ব্যায়াম করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
  • ব্যায়াম করার সময় সঠিক поза বা অঙ্গবিন্যাস বজায় রাখুন। ভুলভাবে ব্যায়াম করলে উপকার না হয়ে ক্ষতি হতে পারে।
  • যদি কোনো ব্যায়াম করতে অসুবিধা হয়, তবে সেটি বাদ দিন। শরীরের ওপর বেশি চাপ দেবেন না।
  • ব্যায়াম করার পাশাপাশি সঠিক ডায়েট মেনে চলুন। হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার গ্রহণ করুন।
  • достаточно পরিমাণে পানি পান করুন। ব্যায়াম করার সময় শরীরকে हाइड्रेटेड রাখা জরুরি।
  • ধৈর্য ধরে ব্যায়াম করুন। কুঁজো ভাব কমাতে সময় লাগতে পারে, তাই হতাশ না হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যান।
  • বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ব্যায়াম শুরু করার আগে একজন ফিজিওথেরাপিস্ট বা ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

কুঁজো ভাব দূর করার ব্যায়াম: কখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে?

কুঁজো ভাব দূর করার জন্য ব্যায়াম শুরু করার আগে কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে, তা নিচে দেওয়া হলো:

  • যদি আপনার পিঠে বা ঘাড়ে তীব্র ব্যথা থাকে।
  • যদি ব্যায়াম করার সময় ব্যথা বাড়ে।
  • যদি আপনার অস্টিওপোরোসিস বা অন্য কোনো হাড়ের রোগ থাকে।
  • যদি আপনার আগে কোনো মেরুদণ্ডের আঘাত থাকে।
  • যদি আপনি গর্ভবতী হন।
  • যদি আপনার শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগ থাকে।
  • যদি আপনার অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকে যা ব্যায়াম করতে বাধা দেয়।
  • যদি আপনি কোনো ওষুধ সেবন করেন যা ব্যায়ামের ফলকে প্রভাবিত করতে পারে।
  • যদি আপনি নিশ্চিত না হন কোন ব্যায়াম আপনার জন্য উপযুক্ত।
  • যদি আপনি ব্যায়াম করার সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চান।

কিছু জরুরি কথা

কুঁজো হয়ে যাওয়া থেকে মুক্তি পেতে হলে নিয়মিত ব্যায়াম করার পাশাপাশি কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে। সঠিক বসার поза, কাজের সময় বিরতি নেওয়া এবং হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার খাওয়া খুব জরুরি। ধৈর্য ধরে চেষ্টা করলে এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে আপনি অবশ্যই কুঁজো ভাব কমাতে পারবেন এবং সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবেন।

কী শিখলাম

  • কুঁজো হওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে, যেমন ভুল অঙ্গবিন্যাস, অস্টিওপোরোসিস, বয়স, আঘাত, ইত্যাদি।
  • কুঁজো হলে পিঠে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি, হজম সমস্যা, এবং হাড়ের দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
  • কুঁজো ভাব দূর করার জন্য চিন টাক, শোল্ডার ব্লেড স্কুইজ, চেস্ট স্ট্রেচ, ব্যাক এক্সটেনশন, ক্যাট-কাউ স্ট্রেচ, এবং অন্যান্য ব্যায়ামগুলো করা যায়।
  • অফিসে কাজের সময় সঠিক চেয়ার ব্যবহার, কম্পিউটার স্ক্রিন সঠিক উচ্চতায় রাখা, নিয়মিত বিরতি নেওয়া, এবং সঠিকভাবে বসার মাধ্যমে কুঁজো হওয়া থেকে বাঁচা যায়।
  • ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, প্রোটিন, ভিটামিন কে, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, এবং ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার কুঁজো ভাব কমাতে সাহায্য করে।
  • ব্যায়াম করার সময় শরীর গরম করা, ধীরে ধীরে ব্যায়াম করা, প্রতিদিন ব্যায়াম করা, সঠিক অঙ্গবিন্যাস বজায় রাখা, এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।
  • পিঠে বা ঘাড়ে তীব্র ব্যথা থাকলে, ব্যায়াম করার সময় ব্যথা বাড়লে, বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

কুঁজো ভাব দূর করার ব্যায়াম নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

১. কুঁজো ভাব কমানোর জন্য সবচেয়ে ভালো ব্যায়াম কোনটি?

আসলে, কোনো একটি ব্যায়ামকে সেরা বলা যায় না। বিভিন্ন ব্যায়াম বিভিন্ন মাংসপেশীকে শক্তিশালী করে এবং মেরুদণ্ড সোজা রাখতে সাহায্য করে। চিন টাক, শোল্ডার ব্লেড স্কুইজ, এবং ব্যাক এক্সটেনশন – এই ব্যায়ামগুলো সাধারণত খুব ভালো ফল দেয়।

২. কতদিন ব্যায়াম করলে কুঁজো ভাব কমতে শুরু করবে?

এটা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে, নিয়মিত ব্যায়াম করলে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে উন্নতি দেখা যায়। ধৈর্য ধরে ব্যায়াম চালিয়ে যেতে হবে এবং পাশাপাশি সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও বসার поза-র দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

৩. কুঁজো ভাব কি পুরোপুরি সারানো সম্ভব?

যদি কুঁজো হওয়ার কারণ গুরুতর কোনো রোগ না হয়, তাহলে সঠিক ব্যায়াম এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে কুঁজো ভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে, কিছু ক্ষেত্রে পুরোপুরি সারানো সম্ভব নাও হতে পারে।

৪. গর্ভাবস্থায় কি কুঁজো ভাব দূর করার ব্যায়াম করা যায়?

গর্ভাবস্থায় ব্যায়াম করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কিছু ব্যায়াম গর্ভাবস্থায় নিরাপদ নাও হতে পারে। ডাক্তার আপনার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সঠিক ব্যায়ামের পরামর্শ দিতে পারবেন।

৫. বয়স্কদের জন্য কুঁজো ভাব কমানোর ব্যায়ামগুলো কি আলাদা?

বয়স্কদের জন্য ব্যায়াম করার সময় কিছু বিষয় মনে রাখতে হয়। তাঁদের শরীরের নমনীয়তা এবং সহ্যক্ষমতা কম থাকতে পারে। তাই, হালকা ব্যায়াম এবং স্ট্রেচিংয়ের উপর বেশি জোর দেওয়া উচিত। কোনো ব্যায়াম করার সময় যদি ব্যথা লাগে, তাহলে সেটি বন্ধ করে দেওয়া উচিত এবং ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।