ডিমের সাদা অংশ বনাম পুরো ডিম: স্বাস্থ্যকর কোনটা, জানা আছে কি আপনার?
ডিম! সকালের নাস্তার টেবিলে হোক বা বিকেলের ঝটপট স্ন্যাকস, ডিমের কদর সবসময়ই তুঙ্গে। কিন্তু ডিম নিয়ে আমাদের মনে নানা প্রশ্ন ঘোরাফেরা করে।
আচ্ছা, ডিমের সাদা অংশ ভালো নাকি পুরো ডিম? কোলেস্টেরল নিয়ে চিন্তা আছে? ওজন কমাতে ডিম কিভাবে সাহায্য করে?
আজ আমরা ডিমের সাদা অংশ এবং পুরো ডিম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাহলে চলুন, ডিমের ভেতরের রহস্য ভেদ করা যাক!
Contents
- ডিমের সাদা অংশ নাকি পুরো ডিম: পুষ্টিগুণে কে এগিয়ে?
- ডিমের সাদা অংশ বনাম পুরো ডিম: স্বাস্থ্য বেনিফিট কার বেশি?
- কোলেস্টেরল: ডিমের কুসুম কি ভয়ের কারণ?
- ওজন কমাতে ডিম: কিভাবে খাবেন, কখন খাবেন?
- ডিমের অ্যালার্জি: কাদের জন্য ডিম এড়িয়ে চলা উচিত?
- ডিম নিয়ে কিছু দরকারি টিপস
- ডিমের রেসিপি: স্বাস্থ্যকর কিছু আইডিয়া
- ডিমের বিকল্প: ভেগানদের জন্য কি আছে?
- ডিমের দাম: সাধ্যের মধ্যে পুষ্টি
- ডিমের সাদা অংশ বনাম পুরো ডিম: আপনার জন্য কোনটা সেরা?
- ডিমের সাদা অংশ বনাম পুরো ডিম: কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
- গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় (Key Takeaways)
ডিমের সাদা অংশ নাকি পুরো ডিম: পুষ্টিগুণে কে এগিয়ে?
ডিমের সাদা অংশ আর পুরো ডিম, দুটোতেই কিন্তু ভরপুর পুষ্টিগুণ রয়েছে। তবে এদের মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। চলুন, দেখে নেওয়া যাক:
ডিমের সাদা অংশের পুষ্টিগুণ
ডিমের সাদা অংশ মূলত প্রোটিন এবং কিছু জরুরি ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ। এতে ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল প্রায় থাকেই না। যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য এটা দারুণ একটা খাবার।
- প্রোটিন: ডিমের সাদা অংশে প্রায় ৪ গ্রাম প্রোটিন থাকে।
- ক্যালোরি: একটি ডিমের সাদা অংশে প্রায় ১৭ ক্যালোরি থাকে।
- সোডিয়াম: এর মধ্যে ৫৫ মিলিগ্রাম সোডিয়াম পাওয়া যায়।
- রাইবোফ্লাভিন: অল্প পরিমাণে রাইবোফ্লাভিনও পাওয়া যায়।
পুরো ডিমের পুষ্টিগুণ
পুরো ডিম মানে কুসুমসহ, যা স্বাদে এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেলস এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সবই পাওয়া যায়। ডিমের কুসুমে ভিটামিন ডি এবং কোলিন থাকে, যা মস্তিষ্কের জন্য খুবই জরুরি।
- প্রোটিন: একটি বড় ডিমে প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে।
- ক্যালোরি: একটি ডিমে প্রায় ৭৮ ক্যালোরি থাকে।
- ফ্যাট: ৫ গ্রাম ফ্যাট থাকে, যার মধ্যে স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও রয়েছে।
- ভিটামিন ও মিনারেলস: ভিটামিন এ, ডি, ই, বি১২, আয়রন, জিঙ্ক এবং সেলেনিয়াম-এর মতো উপাদানও পাওয়া যায়।
নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে ডিমের সাদা অংশ এবং পুরো ডিমের পুষ্টিগুণ তুলনা করে দেখানো হলো:
| পুষ্টি উপাদান | ডিমের সাদা অংশ (১টি) | পুরো ডিম (১টি) |
|---|---|---|
| ক্যালোরি | ১৭ | ৭৮ |
| প্রোটিন | ৪ গ্রাম | ৬ গ্রাম |
| ফ্যাট | ০ গ্রাম | ৫ গ্রাম |
| কোলেস্টেরল | ০ মিলিগ্রাম | ২১২ মিলিগ্রাম |
| ভিটামিন এ | ০% | ৬% |
| ভিটামিন ডি | ০% | ১০% |
| ভিটামিন বি১২ | ০% | ৯% |
| আয়রন | ০% | ৫% |
ডিমের সাদা অংশ বনাম পুরো ডিম: স্বাস্থ্য বেনিফিট কার বেশি?
ডিমের সাদা অংশ এবং পুরো ডিম দুটোই শরীরের জন্য খুব উপকারী। তবে এদের কিছু বিশেষ স্বাস্থ্য বেনিফিট আছে যা আলাদা করে আলোচনার দাবি রাখে। আসুন, সেইগুলো একটু দেখে নেওয়া যাক।
ডিমের সাদা অংশের স্বাস্থ্য বেনিফিট
ডিমের সাদা অংশে ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল না থাকায়, এটি ওজন কমানোর জন্য খুবই ভালো। এছাড়াও, এতে থাকা প্রোটিন পেশি গঠনে সাহায্য করে।
- ওজন কমাতে সহায়ক: ডিমের সাদা অংশে ক্যালোরি কম থাকায় এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে।
- পেশি গঠনে সাহায্য করে: যারা শরীরচর্চা করেন, তাদের জন্য ডিমের সাদা অংশ প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস।
- কিডনির জন্য ভালো: যাদের কিডনির সমস্যা আছে, তাদের জন্য ডিমের সাদা অংশ খুব উপকারী, কারণ এতে ফসফরাসের পরিমাণ কম থাকে।

পুরো ডিমের স্বাস্থ্য বেনিফিট
পুরো ডিমে ভিটামিন, মিনারেলস এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকায় এটি শরীরের জন্য অনেক বেশি পুষ্টিকর। ডিমের কুসুমে থাকা কোলিন মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং ভিটামিন ডি হাড় মজবুত করে।
- মস্তিষ্কের জন্য উপকারী: ডিমের কুসুমে কোলিন থাকে, যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষা করে: ভিটামিন ডি হাড়কে মজবুত রাখতে সাহায্য করে।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: ভিটামিন ও মিনারেলস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- চোখের জন্য ভালো: ডিমে লুটেইন এবং জিক্সানথিন থাকে, যা চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং বয়সজনিত কারণে হওয়া চোখের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
কোলেস্টেরল: ডিমের কুসুম কি ভয়ের কারণ?
অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল বেশি থাকার কারণে এটা কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
আসলে, ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকলেও, তা শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রাকে তেমন প্রভাবিত করে না।
কারণ, আমাদের শরীর প্রতিদিন যে পরিমাণ কোলেস্টেরল তৈরি করে, খাবারের কোলেস্টেরল তার চেয়ে অনেক কম।
তবে, যাদের আগে থেকেই কোলেস্টেরলের সমস্যা আছে, তাদের ডিমের কুসুম খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত। তারা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ডিম খেতে পারেন।
ওজন কমাতে ডিম: কিভাবে খাবেন, কখন খাবেন?
ওজন কমাতে ডিম একটি দারুণ খাবার। ডিমে থাকা প্রোটিন দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, ফলে অন্য খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়।
সকালের নাস্তায় ডিম খেলে সারাদিন ক্ষুধা কম লাগে এবং ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ কমে যায়।
ডিম সেদ্ধ করে খাওয়া সবচেয়ে ভালো, কারণ এতে কোনো তেল বা ফ্যাট যোগ হয় না। এছাড়া, ডিমের সাদা অংশের অমলেটও একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প।
ডিমের অ্যালার্জি: কাদের জন্য ডিম এড়িয়ে চলা উচিত?
ডিমের অ্যালার্জি একটি সাধারণ সমস্যা, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এটা বেশি দেখা যায়। ডিমের অ্যালার্জি হলে শরীরে র্যাশ, চুলকানি, বমি বা পেটে ব্যথা হতে পারে।
যদি আপনার ডিমের অ্যালার্জি থাকে, তাহলে ডিম এবং ডিম দিয়ে তৈরি খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
ডিমের বদলে প্রোটিনের অন্যান্য উৎস, যেমন – মাছ, মাংস, ডাল এবং বাদাম খেতে পারেন।
ডিম নিয়ে কিছু দরকারি টিপস
- ডিম সবসময় ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।
- কাঁচা ডিম না খেয়ে ভালোভাবে সেদ্ধ করে খান।
- ডিম কেনার সময় প্যাকেজের মেয়াদ দেখে কিনুন।
- ডিমের কোনো অংশ ভেঙে গেলে বা গন্ধ হলে তা পরিহার করুন।
- ডিম রান্নার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।

ডিমের রেসিপি: স্বাস্থ্যকর কিছু আইডিয়া
ডিম দিয়ে অনেক রকমের স্বাস্থ্যকর রেসিপি তৈরি করা যায়। এখানে কিছু সহজ আইডিয়া দেওয়া হলো:
- সেদ্ধ ডিম: সবচেয়ে সহজ এবং স্বাস্থ্যকর।
- ডিমের অমলেট: সবজি দিয়ে অমলেট তৈরি করলে এটা আরও পুষ্টিকর হয়।
- ডিমের পোচ: কম তেলে ডিম পোচ করে খেলে তা হালকা এবং স্বাস্থ্যকর হয়।
- ডিমের কারি: ডিমের কারি তৈরি করার সময় কম তেল ব্যবহার করুন এবং সবজি যোগ করুন।
ডিমের বিকল্প: ভেগানদের জন্য কি আছে?
যারা ডিম খান না, তাদের জন্য অনেক বিকল্প খাবার রয়েছে যা ডিমের মতো পুষ্টি দিতে পারে।
- টোফু: এটি সয়াবিন থেকে তৈরি হয় এবং প্রোটিনের খুব ভালো উৎস।
- ডাল: ডালে প্রচুর প্রোটিন এবং ফাইবার থাকে।
- বাদাম ও বীজ: এগুলো স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং প্রোটিনের উৎস।
- চিয়া সিড: ডিমের বদলে চিয়া সিড ব্যবহার করে অনেক রেসিপি তৈরি করা যায়।
ডিমের দাম: সাধ্যের মধ্যে পুষ্টি
ডিমের দাম সাধারণত আমাদের সাধ্যের মধ্যেই থাকে। অন্যান্য প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের তুলনায় ডিম অনেক সহজলভ্য। তাই, ডিম একটি পুষ্টিকর এবং সাশ্রয়ী খাবার।
ডিমের সাদা অংশ বনাম পুরো ডিম: আপনার জন্য কোনটা সেরা?

ডিমের সাদা অংশ এবং পুরো ডিম দুটোই স্বাস্থ্যকর। আপনার প্রয়োজন এবং শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে আপনি কোনটা খাবেন।
যদি আপনি ওজন কমাতে চান বা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকে, তাহলে ডিমের সাদা অংশ আপনার জন্য ভালো।
আর যদি আপনি পুরো ডিমের পুষ্টিগুণ পেতে চান এবং আপনার কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা না থাকে, তাহলে পুরো ডিম আপনার জন্য সেরা।
ডিমের সাদা অংশ বনাম পুরো ডিম: কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
এখানে ডিম নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো:
ডিমের সাদা অংশ কি শরীরের জন্য ভালো?
অবশ্যই! ডিমের সাদা অংশে প্রচুর প্রোটিন থাকে এবং ফ্যাট ও কোলেস্টেরল কম থাকে। এটি ওজন কমাতে এবং পেশি গঠনে সাহায্য করে।
প্রতিদিন কটা ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যকর?
সাধারণত, একজন সুস্থ ব্যক্তি প্রতিদিন একটা বা দুটো ডিম খেতে পারেন। তবে, যাদের কোলেস্টেরলের সমস্যা আছে, তাদের ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডিমের কুসুম কি ক্ষতিকর?
ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকলেও, তা সাধারণত শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রাকে তেমন প্রভাবিত করে না। তবে, যাদের কোলেস্টেরলের সমস্যা আছে, তাদের কুসুম খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।
ডিম কি ওজন কমাতে সাহায্য করে?
হ্যাঁ, ডিমে থাকা প্রোটিন দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, ফলে অন্য খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায় এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে।
ডিমের অ্যালার্জি হলে কি করা উচিত?
ডিমের অ্যালার্জি হলে ডিম এবং ডিম দিয়ে তৈরি খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। ডিমের বদলে প্রোটিনের অন্যান্য উৎস, যেমন – মাছ, মাংস, ডাল এবং বাদাম খেতে পারেন।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় (Key Takeaways)
- ডিমের সাদা অংশে ফ্যাট ও কোলেস্টেরল কম থাকে, যা ওজন কমাতে সহায়ক।
- পুরো ডিমে ভিটামিন, মিনারেলস এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে, যা মস্তিষ্কের জন্য উপকারী।
- ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকলেও তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়, যদি না আপনার আগে থেকেই কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকে।
- ওজন কমাতে ডিম সেদ্ধ করে বা অমলেট করে খাওয়া ভালো।
- ডিমের অ্যালার্জি থাকলে ডিম পরিহার করা উচিত এবং বিকল্প প্রোটিনের উৎস খুঁজে নিতে হবে।